মূল বিষয়বস্তুতে যান
জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়াযাত্রাবাড়ী, ঢাকা

সুন্নত প্রতিষ্ঠা ও ইসলাহের আন্দোলন

মজলিসে দাওয়াতুল হক

কী ও কেন — হযরত থানভী রহ. থেকে মুহিউস সুন্নাহ পর্যন্ত ধারাবাহিক এক দ্বীনি কাফেলা, যার কেন্দ্র এই জামিয়া।

উৎপত্তি ও উদ্দেশ্য

১৩৫৮ হিজরিতে উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ হযরত আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও বিভ্রান্ত সমাজের পরিশুদ্ধির পাথেয় হিসেবে মজলিসে দাওয়াতুল হক প্রতিষ্ঠা লাভ করে। রাসূলে পাক ﷺ-এর সুন্নতের অনুসরণ, সমাজের সর্বস্তরে সুন্নত প্রতিষ্ঠা এবং বিদআত ও মুনকারাতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।

থানভী রহ. প্রতিষ্ঠিত এই দাওয়াতুল হক মূলত মানবতার উৎকর্ষ সাধনে একটি নির্দেশনা ও পাথেয়। তাঁর বিশেষ অনুরাগী ভক্ত ও খলীফাদের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশেও এ কাজের সূচনা হয় — হযরত আতহার আলী রহ., হযরত আব্দুল ওয়াহহাব (হাটহাজারী) রহ., শামসুল হক ফরীদপুরী রহ. প্রমুখের নিরলস প্রচেষ্টায় থানভী রহ.-এর চিন্তাধারা এদেশে বিশেষ প্রসার লাভ করে।

আমীরুল উমারার দায়িত্ব অর্পণ

থানভী রহ.-এর খলীফাদের একের পর এক বিদায়ের পর দাওয়াতুল হকের কর্ণধার ছিলেন নবী-বংশের উজ্জ্বল প্রদীপ মুহিউস সুন্নাহ মাওলানা শাহ আবরারুল হক হারদুয়ী রহ.। মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বেও তিনি মজলিসে দাওয়াতুল হকের ১১তম মারকাজি ইজতেমায় তাশরিফ এনেছিলেন।

১৯৯৩ সালে হারদুয়ী রহ. মুরিদ ও খুলাফায়ে কেরামের মজলিসে বাংলাদেশের কাজের অবস্থা দেখে গভীর ব্যথা প্রকাশ করেন এবং সুন্নতের এই মহতী কাজের যোগ্য কর্ণধার নির্ধারণ করে দেন। ৩ জিলকদ ১৪১৩ হিজরি মোতাবেক ১৯৯৩ সালে বসুন্ধরা ইসলামী রিসার্চ সেন্টারের মুহতামিম মুফতি আব্দুর রহমান রহ.-এর হাতে লেখা ঘোষণায় তিনি জামিয়ার মুহতামিম আল্লামা মাহমুদুল হাসান সাহেবকে মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমীরুল উমারা মনোনীত করেন।

আমাদের মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব দামাত বারাকাতুহুম, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ি বড় মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেবকে মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমীরুল উমারা মনোনীত করেছেন।
— ঘোষণাপত্র, ৩ জিলকদ ১৪১৩ হিজরি

সংশ্লিষ্ট মাদরাসার নেটওয়ার্ক

মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ ও যাত্রাবাড়ী মাদরাসার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ও সংশ্লিষ্ট মাদরাসাসমূহ দেশের আট বিভাগে ছড়িয়ে আছে।

১১৯+

সংশ্লিষ্ট মাদরাসা

  • ঢাকা বিভাগ৫২
  • মোমেনশাহী বিভাগ২০
  • চট্টগ্রাম বিভাগ১২
  • রাজশাহী বিভাগ
  • রংপুর বিভাগ
  • বরিশাল বিভাগ
  • খুলনা বিভাগ
  • সিলেট বিভাগ

এর মধ্যে মারকাজ — জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ি।

কর্মপরিচালনার মূলনীতি

নিম্নোক্ত মূলনীতি স্বয়ং হারদুয়ী হযরত রহ. প্রণয়ন করেছেন (সূত্র: মজলিসে দাওয়াতুল হক হারদুয়ী, ১০ শাওয়াল ১৪২৪ হিজরি)।

  1. 1

    প্রয়োজনে ‘মজলিসুল উমারা’র পরামর্শক্রমে আমীর ও নায়েবে আমীরদের পরিবর্তন করা যাবে।

  2. 2

    দাওয়াতুল হকের বাৎসরিক ইজতিমা মারকাজ জামিয়া যাত্রাবাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে; আমীরুল উমারার অনুমোদন সাপেক্ষে জেলা-থানা পর্যায়েও হতে পারে।

  3. 3

    কোনো আমীর, নায়েবে আমীর বা বিশেষ সদস্য মজলিসুল উমারার অনুমোদন ছাড়া দাওয়াতুল হক বা অন্য নামে ভিন্নভাবে কাজ করতে পারবেন না।

  4. 4

    সমগ্র বাংলাদেশে দাওয়াতুল হকের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব মজলিসুল উমারার ওপর।

  5. 5

    জেলা ও থানাভিত্তিক ইজতিমার জন্য হালকার সদস্যদের কাছ থেকে অবাধে চাঁদা আদায় থেকে বিরত থাকবে।

  6. 6

    থানাভিত্তিক ইজতেমায় আমীরুল উমারা বা তাঁর মনোনীত সদস্যের মধ্য হতে একজন বিশিষ্ট আলেমের অংশগ্রহণ জরুরি।

  7. 7

    জেলা ও থানাভিত্তিক ইজতিমার জন্য আমীরুল উমারা ও হালকার আমীর উভয়ই আহ্বায়ক হতে পারেন।

  8. 8

    কেন্দ্রীয় সমস্ত এলান ও প্রচারপত্র কেন্দ্র থেকেই প্রচারিত হবে।

  9. 9

    কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে আমীরুল উমারার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গৃহীত হবে।

  10. 10

    আমীর ও নায়েবে আমীরগণ সরাসরি রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকবেন।

কর্মসূচি ও ব্যবস্থাপনা

দাওয়াতুল হকের কর্মসূচি বাস্তবায়নে যে নিয়মিত মজলিস ও প্রোগ্রামগুলো পরিচালিত হয়।

1

মজলিসুল উমারা

দেশের সর্বোচ্চ পরামর্শ মজলিস। প্রতি ইংরেজি মাসের প্রথম শুক্রবার সকালে মাসিক পরামর্শ সভা বসে; মালফুজাত পাঠ, রিপোর্ট পর্যালোচনা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

2

থানাভিত্তিক হালকা

সারা দেশে থানাভিত্তিক হালকা। প্রতি হালকায় ১৫ দিন অন্তর একটি মজলিসে আম ও একটি কর্মী মজলিস; সমস্ত কার্যক্রম লিপিবদ্ধ করে মজলিসুল উমারায় পেশ করা হয়।

3

মজলিসে আম

স্থানীয় হালকার তত্ত্বাবধানে মাসে অন্তত দুটি মজলিসে আম। এলাকার মুসলমানদের মধ্যে দ্বীনি চেতনা সৃষ্টি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে মেহনত করা হয়।

4

ইসলাহি মজলিস

প্রতি মাসে অন্তত একবার। জাহেরি-বাতেনি পরিশুদ্ধি, যিকির-আযকার, দোয়া-দরূদ ও ইসলাহের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

5

মজলিসুল উলামা ওয়াল আইম্মা

প্রতি আরবি মাসের প্রথম শুক্রবার বাদ ফজর যাত্রাবাড়ী মাদরাসায়। উলামা-মাশায়েখ, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নিয়ে দুই পর্বে পরিচালিত হয়।

6

বার্ষিক মারকাজি ইজতেমা

প্রতি বছর কেন্দ্রীয়ভাবে বাৎসরিক মারকাজি ইজতেমা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উলামা, ইমাম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান এতে শরিক হন।

নূরানী মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ

মজলিসে দাওয়াতুল হকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই জামিয়ায় বছরব্যাপী ৭টি ব্যাচে (প্রতি ব্যাচ ৪৫ দিন; শুধু রমযানে ৩০ দিন ও শাওয়ালে ৬০ দিন) নূরানী মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ কোর্স সুদীর্ঘ দুই দশক ধরে সুচারুরূপে পরিচালিত হয়ে আসছে।

এখানে কুরআনে কারীমের সহীহ তিলাওয়াত, ইলমে কিরাত-তাজবীদ, সিফাতসহ হদর মশক, তরিকায়ে তালীম, হাদিস ও মাসআলা, নামায-আযান-ইকামত এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সুন্নতসমূহের আমলী শিক্ষা দেওয়া হয়। চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আমীরে দাওয়াতুল হকের দস্তখতসম্বলিত সনদপত্র প্রদান করা হয়।

সুন্নতের এই কাফেলায় শরিক হোন

সুন্নত প্রতিষ্ঠা, বিদআত-মুনকারাত দমন ও সমাজের ইসলাহ — এ মহতী কাজে আপনিও শরিক হতে পারেন। নিকটস্থ হালকা, মজলিসে আম ও বার্ষিক ইজতেমায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কাফেলার সঙ্গী হোন।

আল্লাহ তাআলা এই মেহনতকে কবুল করুন এবং সমাজের সর্বস্তরে সুন্নত প্রতিষ্ঠার তাওফিক দান করুন — আমীন।

হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান