মক্তব বিভাগ
শিশু-পঞ্চম শ্রেণিএ বিভাগে সুবিন্যস্ত শ্রেণি পদ্ধতিতে আরবি বর্ণমালা পরিচয় থেকে পবিত্র কুরআন নাজেরা, দোয়া-দরূদ, মাসআলা-মাসায়েল ও বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা প্রদান করা হয়।
জামিয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
কুরআন-সুন্নাহ তথা ইলমে ওহির আলো পৃথিবীময় ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে দারুল উলূম দেওবন্দের অনুকরণে প্রতিষ্ঠিত এক অনন্য দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান — জামিয়া নগর, ৩১২, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ি, ঢাকা-১২০৪।
পরিচিতি
নাম ও ঠিকানা
জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া। জামিয়া নগর, ৩১২, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ি, ঢাকা-১২০৪।
ভৌগোলিক অবস্থান
রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্গত যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তা থেকে সামান্য পূর্ব দিকে ওয়াপদা কলোনী সংলগ্ন।
পূর্বপাশ
নবনির্মিত যাত্রাবাড়ি-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের পূর্বসীমা কুতুবখালি খাল-সংলগ্ন পশ্চিমপাড়েই একাধিক বহুতল ভবনবিশিষ্ট সুখ্যাত জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়ার অবস্থান।
জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা বিশ্বখ্যাত মাদারে ইলমি দারুল উলূম দেওবন্দের সিলেবাসভুক্ত আহলে সুন্নাতওয়াল জামাতের আদর্শভিত্তিক একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান।
ইসলামি জ্ঞানভাণ্ডার সংরক্ষণ ও তার ব্যাপক প্রচার-প্রসার, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার বিধানাবলি ও সুন্নতে নববি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে দূরদর্শী হক্কানি আলেম সৃষ্টি করা এবং তাদেরকে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও বিশ্বসেবায় নিয়োজিত হওয়ার উপযুক্ত করে গড়ে তোলা।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা-বিশ্বাস অনুযায়ী হাদিস, আছার ও ফিকহ হানাফির সংরক্ষণ এবং দেওবন্দি সিলেবাস মোতাবিক শিক্ষা-দীক্ষার যথাযথ বাস্তবায়ন।
ইতিহাস ও পটভূমি
কুরআন-সুন্নাহ তথা ইলমে ওহির আলো পৃথিবীময় ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র দারুল উলূম দেওবন্দের অনুকরণে যে সকল প্রতিষ্ঠান এদেশে মুসলমানদের তাহযীব-তামাদ্দুন, ইসলামী চিন্তা-চেতনা জাগিয়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ি সেই ধারাবাহিকতারই এক অনন্য দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অত্র জামেয়া থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে লক্ষাধিক সুযোগ্য শিক্ষার্থী বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত সুচারুরূপে সুনামের সাথে দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে।
বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি বিগত অর্ধশতাব্দীর অধিককাল যাবৎ কেবল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দোয়া ও সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতায় মুসলিম সন্তানদেরকে ধর্মীয় ভাবধারায় বহুমুখী যোগ্যতার অধিকারী করে গড়ে তোলা ও সুন্নতে রাসূল সাঃ-এর প্রচার-প্রসারে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীয় পরিচয় বহন করে আসছে।
১৩৮১ হিজরি মোতাবেক ১৯৬৯ইং সনের শুরুর দিকে তদানীন্তন ঢাকা পৌরসভার পূর্ব-দক্ষিণ প্রান্তে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ি ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোনো দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এই এলাকায় দিন দিন ধর্মীয় মূল্যবোধ হ্রাস পেতে থাকে। তাই মুসলমান সন্তানদেরকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত এবং নববী আদর্শে আদর্শবান করে গড়ে তোলার মহান উদ্দেশ্যে হাফেজ আব্দুল কুদ্দুস সাহেব এখানে প্রথমে একটি প্রভাতী মক্তব চালু করেন। পরবর্তীতে মক্তবের পাশাপাশি হেফজখানাও চালু করেন।
১৯৭০ইং সনের প্রথম দিকে তৎকালীন যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ হাফেজুল হাদীস আল্লামা আব্দুল্লাহ দরখাস্তি রহ. পূর্ব পাকিস্তানে এসে ঢাকায় একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর মুহিব্বীনগণ তাকে নারায়নগঞ্জসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গেলে কোথাও তিনি মাদ্রাসা করার মত স্থান পছন্দ করেননি। সর্বশেষ এখানে আসলে একটি ছোট্ট কামরায় বসেন এবং সকল সাথীদেরকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে মুরাকাবা করেন। মুরাকাবা শেষে সকলকে ডেকে বলেন—
“আমি এখানে ইলমে ওহির সুঘ্রাণ পাচ্ছি। তোমরা এখানেই মাদ্রাসা করো! এখানেই মাদ্রাসা হবে।”
অতঃপর ফরিদাবাদ মাদ্রাসা থেকে বুখারী শরীফ আনিয়ে উপস্থিত উলামায়ে কেরামের সামনে বুখারীর দরস দানের মাধ্যমে মাদ্রাসার উদ্বোধন করেন। উপস্থিত উলামায়ে কেরামদের মধ্যে কাজী সাহেব হুজুরের সাথে তার প্রিয় শাগরেদ জামিয়ার বর্তমান মুহতামিম সাহেব দা. বা.-ও ছিলেন। হযরত মাওলানা কাজী মু'তাছিম বিল্লাহ সাহেব তাঁকে যশোর রেল স্টেশন মাদ্রাসা থেকে এখানে নিয়ে আসেন। দরস দান শেষে দরখাস্তী রহ. একটি মসজিদেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তখন মাদ্রাসার নতুনভাবে নামকরণ করা হয় ‘দারুল উলূম মাদানিয়া’ এবং অস্থায়ী দায়িত্ব প্রদান করা হয় হযরত মাওলানা কাজী মু'তাছিম বিল্লাহ সাহেব রহ.-কে।
১৯৭৬ সনে তিনি বিদায় নেওয়ার পর মুহতামিম নিযুক্ত করা হয়েছিলো হযরত মাওলানা শায়খ তাজাম্মুল আলী রহ.-কে। ১৯৭৮ সনে তিনিও চলে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত মুহতামিমের দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন নাজিমে তালীমাত হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান দা. বা.-কে। অতঃপর ১৯৮০ সনে তাকে পূর্ণ মুহতামিমের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি ১৯৮১ সালে এ প্রতিষ্ঠানটির পূর্বোক্ত নামের আগে ‘জামিয়া ইসলামিয়া’ যুক্ত করে নামকরণ করেন — জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া।
পরবর্তীতে যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা হেদায়েতুল্লাহ রহ.-এর আগমন এবং মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা শাহ আবরারুল হক হক্কী রাহিমাহুল্লাহ ও তারই সুযোগ্য খলিফা মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান দামাত বারাকাতুহুমের সুদক্ষ পরিচালনায় আজ জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া দেশের অন্যতম একটি প্রসিদ্ধ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
১৯৬৯
১৩৮১ হিজরি মোতাবেক হাফেজ আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের হাতে প্রভাতী মক্তবের সূচনা; পরে হেফজখানা চালু
১৯৭০
আল্লামা আব্দুল্লাহ দরখাস্তি রহ. কর্তৃক বুখারীর দরসের মাধ্যমে মাদ্রাসার উদ্বোধন; নামকরণ ‘দারুল উলূম মাদানিয়া’
১৯৭৬
মুহতামিম নিযুক্ত হন হযরত মাওলানা শায়খ তাজাম্মুল আলী রহ.
১৯৭৮
ভারপ্রাপ্ত মুহতামিমের দায়িত্ব পান হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান দা. বা.
১৯৮০
তাঁকে পূর্ণ মুহতামিমের দায়িত্ব প্রদান করা হয়
১৯৮১
নামকরণ হয় ‘জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া’
শিক্ষাধারা
অত্র জামিয়া গতানুগতিক কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়। সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে জামিয়া সাজিয়েছে তার পাঠপদ্ধতি ও শিক্ষা-সিলেবাস। এখানে শিশু শ্রেণি থেকে দ্বীনি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) পর্যন্ত। পাশাপাশি গবেষণামূলক উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের নিমিত্তে বেশ কয়েকটি অনুষদ বিদ্যমান। দাওরায়ে হাদিস সমাপন করার পর মেধাবী তরুণ আলেমদের সেখানে অধ্যয়ন ও গবেষণার বিপুল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। যেন জাতিকে বহুমুখী যোগ্যতাসম্পন্ন বিচক্ষণ আলেম উপহার দেয়া যায়।
সুবিন্যস্ত সিলেবাসের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে মৌলিকভাবে পবিত্র কুরআন, তাফসির, হাদিস, ফিকহ, নাহু-সরফ, বৈষয়িক পর্যায়ে আরবি সাহিত্য, প্রয়োজনীয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি, পৌরনীতি, দর্শন, বিজ্ঞান প্রভৃতি সমুদয় বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হয়।
শিক্ষার পাশাপাশি জনসমাজে সুফল পৌঁছে দেয়ার মহান লক্ষ্যে জামিয়া বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতার এটাও অন্যতম কারণ। সব মিলিয়ে জামিয়া বিভিন্ন অনুষদ সমন্বিত একটি ‘মহা বিদ্যালয়’।
শিক্ষা প্রকল্প
এ বিভাগে সুবিন্যস্ত শ্রেণি পদ্ধতিতে আরবি বর্ণমালা পরিচয় থেকে পবিত্র কুরআন নাজেরা, দোয়া-দরূদ, মাসআলা-মাসায়েল ও বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা প্রদান করা হয়।
এ বিভাগে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ ও যোগ্য হাফেজ সাহেবদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনূর্ধ্ব তিন বছরে আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে পবিত্র কুরআন হিফজ (মুখস্থ) করার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। হিফজ শেষে তাদেরকে কিতাব বিভাগে ভর্তির সবরকম সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়।
সুবিন্যস্ত শ্রেণি পদ্ধতিতে এ বিভাগে ইবতেদায়ি থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) পর্যন্ত ইসলামি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে পাঠদান করা হয়। যাতে শিক্ষার্থীরা চতুর্মুখী যোগ্যতা নিয়ে সমাজে পদার্পণ এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে। এ বিভাগটি তিনটি স্তরে বিন্যস্ত — (ক) মুতাওয়াসসিতা, (খ) কুল্লিয়া, (গ) আলিয়া।
ষষ্ঠ-দশম
এ স্তরে কাফিয়া জামাত পর্যন্ত মাধ্যমিক মানের নাহু-সরফ, আরবি সাহিত্য, মান্তেক (যুক্তিবিদ্যা), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), ফিকহ, উসূলে ফিকহ, পবিত্র কুরআনের অনুবাদ, প্রয়োজনীয় উর্দু-ফারসিসহ বাংলা, ইংরেজি, গণিত, অর্থনীতি, পৌরনীতি, ইতিহাস, ভূগোল প্রভৃতি শিক্ষা দেয়া হয়।
একাদশ-চতুর্দশ
এ স্তরে ডিগ্রি মানের ফিকহ, উসূলে ফিকহ, তাফসির, উসূলে তাফসির, আরবি ব্যাকরণ ও সাহিত্য, ইসলামি আইন, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, ইতিহাস, ধর্মতত্ত্ব ও তাসাউফ প্রভৃতি শিক্ষা দেয়া হয়।
মাস্টার্স
দু'বছর মেয়াদী এ স্তরের অধিকাংশ কিতাব তাফসির, হাদিস ও ফিকহ বিষয়ক। সিহাহ-সিত্তাসহ হাদিসের মৌলিক কিতাবাদি যথা বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি, আবু দাউদ, ত্বহাবি, নাসাঈ, ইবনে মাজহ, মুয়াত্তা মালেক, মুয়াত্তা মুহাম্মাদ, মিশকাত প্রভৃতি এ স্তরের পাঠ্যভুক্ত।
গবেষণা
জামিয়া একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখার পর একজন শিক্ষার্থী যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা তথা থিসিস করার যোগ্যতা অর্জন করে, তেমনই এই জামিয়ার শিক্ষার্থীরাও দাওরায়ে হাদিস শেষে গবেষণামূলক কোনো বিষয়ে পড়ালেখার যোগ্যতা অর্জন করে। এজন্য আমাদের বেশ কয়েকটি বিষয় ও অনুষদ বিদ্যমান রয়েছে।
নিম্নে বিভাগগুলো সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করা হলো—
তাফসির ও কুরআন গবেষণা বিভাগ
১৪২৬ হি. / ২০০৬ খ্রি.
এ অনুষদটি চালু হয় ১৪২৬ হিজরি মোতাবিক ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে। দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীরাই এখানে গবেষণার সুযোগ লাভ করে থাকে। গবেষণার্থীদের তাফসির শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জনের লক্ষ্যে এখান থেকে মৌলিক দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ১ বছর মেয়াদী এই পাঠক্রমে পড়ালেখা শেষে স্বাচ্ছন্দ্য-সাবলীল ভাষা ও গদ্যে নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ অভিসন্দর্ভ (থিসিস) জমা দিলে তাদের সনদ প্রদান করা হয়।
উচ্চতর হাদিস গবেষণা বিভাগ
১৪০২ হি. / ১৯৮২ খ্রি.
এ বিভাগটি ১৪০২ হিজরি মোতাবিক ১৯৮২ সনে খোলা হয়। তবে ১৪২৫ হিজরি মোতাবিক ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে তার ধারাবাহিক ব্যাপক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এতে নির্বাচিত মেধাবী ছাত্রদের হাদিস-সম্পর্কিত বিভিন্ন শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জনের পথ দেখানো হয়। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে যোগ্য মুহাদ্দিস, মুহাক্কিক আলেম ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন গবেষকরূপে গড়ে তোলার যথাসাধ্য প্রয়াস নেওয়া হয়। দু'বছর মেয়াদী এই পাঠক্রমে পড়ালেখা শেষে নির্বাচিত বিষয়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ অভিসন্দর্ভ (থিসিস) জমা দিলে তাদেরকে সনদ প্রদান করা হয়।
ফতওয়া ও গবেষণা বিভাগ
১৪১৪ হি. / ১৯৯৩ খ্রি.
১৪১৪ হিজরি মোতাবিক ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে এ অনুষদটি চালু করা হয়। যাতে দাওরায়ে হাদিস সমাপনকারী মেধাবী তরুণ আলেমরা তাদের প্রখর মেধা ও সুগঠিত চিন্তার বাহনে ভর করে জাতির জন্য তৈরি করতে পারে গবেষণার ফসল। প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ছাত্রদেরকেই এ বিভাগে গবেষণার সুযোগ প্রদান করা হয়ে থাকে। অভিজ্ঞ প্রায় ১২জন উস্তাদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লিখিত হাজার হাজার পৃষ্ঠা অধ্যয়ন শেষে একজন শিক্ষার্থী তার ভেতরে সঞ্চিত মণি-মুক্তার মালা গাঁথতে শুরু করে। মানুষের জীবন-জিজ্ঞাসা ও সমস্যাসংকুল যে কোনো বিষয়ের ওপর ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে তারা গবেষণামূলক প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখে। দু'বছর মেয়াদী এই গবেষণা অনুষদের পড়ালেখা শেষে সাবলীল ভাষা ও গদ্যে নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ গবেষণা অভিসন্দর্ভ (থিসিস) জমা দিলে তাদেরকে ফতওয়া প্রদানের অনুমতি ও সনদ দেয়া হয়। যাদের প্রত্যেকেই ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, দেশ ও আন্তর্জাতিক নানা সমস্যার সমাধানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।
আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স
১৪২০ হি. / ১৯৯৯ খ্রি.
এ কোর্সটি খোলা হয় ১৪২০ হিজরি মোতাবিক ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে। আরবি ভাষা-সাহিত্যে আগ্রহী মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ালেখার সুযোগ পেয়ে থাকে। সম্পূর্ণ নিজস্ব কারিকুলামে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীল আরবি সাহিত্যে বিচরণের সুযোগ করে দেয়া হয়। চলমান আরবি সাহিত্যে অবাধ বিচরণের লক্ষ্যে নিয়মিত জারিদা ও মাজাল্লার পাঠ, সুন্দর হস্তলিপি, উর্দু, ফার্সি, বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষা থেকে (আরবি) অনুবাদ, প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা, আরবি কথোপকথন, উপস্থাপনা ও ভাষাশৈলী, বক্তৃতা-আবৃত্তি, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম ইত্যাকার নানা বিষয় এ বিভাগের নিত্য অনুষঙ্গ। দুই বছর মেয়াদী এই কোর্সে পড়ালেখা করলে সনদ প্রদান করা হয়।
কিরাত বিভাগ
১৪৩৭ হি. / ২০১৬ খ্রি.
এই অনুষদটি ১৪৩৭ হিজরি মোতাবিক ২০১৬ সালে চালু হয়। দুই বছরের এই অনুষদে প্রথম বছরে কিরাতে হাফস এবং দ্বিতীয় বছর কিরাতে সাবআর ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। দুই বছর পূর্ণ করার পর সনদ প্রদান করা হয়।
দ্বীন ইসলামের দাওয়াত দেয়া ও তাবলিগ করা সকল মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরজ। প্রত্যেককেই নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এ গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে। এ কাজের রয়েছে মূলনীতি, যা না জানার কারণে অনেকেই সঠিকভাবে এ দায়িত্ব পালন করছে না। তাই সঠিকভাবে দাওয়াত-তাবলিগের কাজ করার জন্য দ্বীনের দাঈ তৈরি করার লক্ষ্যে উসূলুদ দাওয়াহ তথা দাওয়াতের মূলনীতি ও কর্মপদ্ধতি বিস্তারিত পড়ানো হয়।
সেবা প্রকল্প
পৃথিবীতে মানুষ কত সমস্যাতেই না আক্রান্ত হয়। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, দেশ ও বিশ্ব নিয়ে জটিলতায় ভোগে। সে সব সমস্যার সমাধানকল্পে জামিয়ার একটি সমৃদ্ধ ফতওয়া বিভাগ রয়েছে। এখান থেকে মানবসমস্যার যুগোপযোগী ইসলামি সমাধান ও ফারায়েজ তথা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন করে দেয়া হয়। প্রতিটি সমস্যার চুলচেরা বিশ্লেষণ, যথাযথ সমাধান এবং নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে তার রেফারেন্স দেয়া হয়। যেন কোথাও কোন অস্পষ্টতা না থাকে।
এই কোর্সে পবিত্র কুরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত, ইলমে কিরাত ও তাজবিদের নিয়ম-কানুন, প্রয়োজনীয় মাসয়ালা-মাসায়েল শিক্ষা দেয়া হয়। তরিকায়ে তালিম তথা শিক্ষাদান পদ্ধতি, আজান-ইকামত, নামায ও কাফন-দাফনসহ দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সুন্নতসমূহের মশকে আমলি তথা বাস্তব প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সনদ প্রদানসহ উপযুক্ত মুয়াল্লিমদের খেদমতের সুব্যবস্থা করা হয়।
এই বিভাগ থেকে দৈনিক তালীম, সাপ্তাহিক গাশত ও নিয়মিত ২৪ ঘণ্টার জামাত বের করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্বীনি তাবলিগ ও দাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দেওয়া হয়।
সুন্নতের প্রচার-প্রসার ও মজলিসে ইলমি প্রকাশনা থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ ও ‘আল-জামিয়া’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করা হয়। নিয়মিত আরবি ও বাংলা দেয়ালিকা বের করা হয়।
মাশায়েখে জামিয়া
প্রতিষ্ঠার পর থেকে অসংখ্য বরেণ্য উলামায়ে কেরাম এই জামিয়ায় ইলমের খেদমত করেছেন, আবার দেশ-বিদেশের বহু আকাবির এখানে তাশরীফ এনে দুআ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁদের কিছু নাম শ্রদ্ধাভরে এখানে তুলে ধরা হলো।
যাঁরা জামিয়ায় দরস দিয়েছেন — আল্লাহ তাঁদের নেক হায়াত দান করুন
মাও. রফীক আহমাদ দা. বা.
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নাজিমে তালীমাত; আবু দাউদ ও বুখারী সানীর দরস। পরে মতিঝিল দারুল উলূমের মুহতামিম ও ঢালকানগরের শায়খুল হাদীস।
আবু তাহের মিছবাহ দা. বা.
১৯৭৮–৭৯ সালে উস্তাদ; শিক্ষকতার পাশাপাশি কুতুবখানার দায়িত্বে ছিলেন।
ফরীদুদ্দীন মাসউদ দা. বা.
১৯৭৩–৭৬ সালে উস্তাদ; বর্তমানে চৌধুরীপাড়া জামিয়া ইকরার শায়খুল হাদীস।
আঃ কুদ্দুস দা. বা.
১৯৮০–৮৫ সালে আবু দাউদের দরস; বর্তমানে ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস।
মুফতী উবায়দুল্লাহ দা. বা.
সূচনা থেকে সম্পৃক্ত; তিরমিযী শরীফের দরস দিতেন, পরে ফরিদাবাদে।
আঃ রহমান (হাফিজ্জী হুজুর)
জামিয়ার শুরুর যুগের উস্তাদ; পরে ময়মনসিংহে চলে যান।
আঃ মতিন দা. বা. (পীর সাহেব ঢালকানগর)
১৯৮৭ থেকে কয়েক বছর দরস; বর্তমানে জামিয়া হাকিমুল উম্মত কেরানীগঞ্জের মুহতামিম।
আশেকে মোস্তাফা দা. বা.
১৯৭৮ থেকে প্রায় ছয় বছর; বর্তমানে বরমী লতিফপুর জামিয়ার মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস।
মাওঃ আঃ বার দা. বা.
১৯৮৩ থেকে প্রায় এক যুগ; জামিয়ার মসজিদে খতম তারাবীর ইমাম ছিলেন।
আঃ মজিদ (ইমাম সাহেব হুজুর) দা. বা.
১৯৭৯ থেকে প্রায় দুই যুগ মুসলিম শরীফের দরস; বর্তমানে কেরানীগঞ্জে নিজ মাদরাসার মুহতামিম।
আঃ হক দা. বা.
১৯৮৭ থেকে মিশকাত ও মুসলিমের দরস; বর্তমানে ময়মনসিংহ জামিয়া ফয়জুল উলূমের মুহতামিম।
মাওঃ জামালুদ্দীন দা. বা.
১৯৭৯–৯৩ সালে নাসায়ীর দরস; বর্তমানে আমেরিকায় দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত।
মাওলানা আব্দুল হাই রাহমানী দা. বা.
১৯৭৪–৭৫ সালে উস্তাদ; বর্তমানে মুক্তাগাছা জামিয়া দারুস সালামের মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস।
মাওঃ সুলাইমান (খুলনাবী) দা. বা.
১৯৭৬–৭৯ সালে শরহে ইবনে আকীলসহ নানা কিতাবের দরস।
আঃ রব দা. বা.
১৯৭৯–৮০ সালে উস্তাদ; বর্তমানে ধানমন্ডিতে অবস্থানরত।
ওলীউর রহমান (সিলেটী) দা. বা.
পাকিস্তানে পড়াশোনা; ১৯৭৭–৭৮ সালে জামিয়ার উস্তাদ।
ফারাজ মিয়া সিলেটী দা. বা.
১৯৭৭–৭৮ সালে জামিয়ার উস্তাদ ছিলেন।
যাঁরা জামিয়ায় খেদমত করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন — আল্লাহ তাঁদের জান্নাত দান করুন
মাও. হেদায়াতুল্লাহ (মুহাদ্দিস সাহেব হুজুর) রহ.
লালবাগ থেকে ১৯৮৪ সালে আগমন; মিশকাত ও তিরমিযীর দরস। ১৯৯৬ সালে ইন্তেকাল, মাকবারায়ে জামিয়ায় সমাহিত।
মাও. ছালাহুদ্দীন (শায়েখজী হুজুর) রহ.
১৯৮৪ সালে লালবাগ থেকে আগমন; বুখারী ২য় খণ্ডের দরস। ১৯৯৭ সালে জামিয়ায় ইন্তেকাল।
মাও. সিরাজুল ইসলাম রহ.
সূচনালগ্ন থেকে নায়েবে মুহতামিম ও দাওরার উস্তাদ। ২০০৫ সালে ইন্তেকাল।
কাজী মু'তাছিম বিল্লাহ রহ.
প্রতিষ্ঠাকালীন মুহতামিম; হারিকেনের আলোয় বুখারীর দরস দিতেন। ২০১৪ সালে ইন্তেকাল।
তাজামুল আলী (পীর সাহেব) রহ.
শুরুর যুগের উস্তাদ; দুই বছর এহতেমামের দায়িত্বে ছিলেন।
আব্দুল মান্নান কাশিয়ানী রহ.
শামছুল হক ফরীদপুরী রহ.-এর জামাতা; ১৯৮০–৮৪ সালে বুখারীর দরস। ২০০৩ সালে ইন্তেকাল।
মিয়া হুসাইন রহ.
১৯৮২ সালে ময়মনসিংহ থেকে; মিশকাত ও নাসায়ীর দরস। ১৯৮৮ সালে ইন্তেকাল।
নজীর আহমাদ রহ.
১৯৮০–৮৫ সালে দাওরায় তিরমিযী সানীর দরস দিতেন।
আঃ হক জালালাবাদী রহ.
খতীব উবাইদুল হক জালালাবাদীর ছোট ভাই; ১৯৭৭–৭৯ সালে উস্তাদ। ২০২২ সালে ইন্তেকাল।
মাও. মুজিবুর রহমান (কারাটিটোলা) রহ.
১৯৭৯ থেকে ৮ বছর খিদমত; তহুরী ও মুয়াত্তার দরস। ২০১৪ সালে ইন্তেকাল।
ফজলুর রহমান রহ.
ফরিদাবাদের সাবেক মুহতামিম; এখানে নায়েবে মুহতামিম ও নাসায়ীর দরস। ২০০৪ সালে ইন্তেকাল।
আবুল বারাকাত মুহা. ইউসুফ রহ.
১৯৮৫ সালে মদীনা থেকে আগমন; মুয়াত্তা মালিকের দরস। ২০১৮ সালে ইন্তেকাল।
মাও. মাহফুজুর রহমান রহ.
শুরুর যুগে হাদীসের উস্তাদ; পরে দুবাই গমন। ২০২২ সালে ইন্তেকাল।
মাও. আঃ জাব্বার জাহানাবাদী রহ.
আনুমানিক ১৯৭৮ সালে উস্তাদ; পরে দীর্ঘকাল বেফাকের মহাসচিব। ২০১৬ সালে ইন্তেকাল।
মুফতী সাদেকুল ইসলাম রহ.
১৯৭৪ থেকে খিদমত; ১৯৯৫ সালে ইফতা বিভাগের প্রধান মুফতী। ২০২২ সালে ইন্তেকাল।
শহীদুল্লাহ ফয়জুল বারী (আদীব সাহেব) রহ.
২০১৩ সালে আগমন; আরবী সাহিত্যের দরস দিতেন। ২০১৬ সালে ইন্তেকাল।
মাও. ইসমাইল রহ.
হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.-এর খলীফার জামাতা; ১৯৭৯–৮০ সালে দরস। ২০০৫ সালে ইন্তেকাল।
মাও. মুহা. ইসহাক রহ.
পাকিস্তান ও মদীনায় পড়াশোনা; ১৯৯৫ সালে উস্তাদ নিযুক্ত। ২০১৩ সালে ইন্তেকাল।
দেশ-বিদেশের যেসব আকাবির জামিয়ায় তাশরীফ এনেছেন
আব্দুল্লাহ দরখাস্তি রহ.
পাকিস্তানের বুযুর্গ, যাঁর দিকনির্দেশনায় জামিয়ার ভিত্তি স্থাপিত — 'এখানেই মাদরাসা গড়, এখান থেকেই ইলমের সুঘ্রাণ আসছে।'
মাওঃ আবরারুল হক হক্কী রহ.
১৯৮৬ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত জামিয়ায় কয়েকবার তাশরীফ আনেন।
হাকীম আখতার সাহেব রহ.
১৯৮৮ সালে জামিয়ায় তাশরীফ এনেছিলেন।
ক্বারী তৈয়ব সাহেব রহ.
দারুল উলূম দেওবন্দের দীর্ঘকালীন মুহতামিম; ১৯৭৯ সালে আগমন।
আসআদ মাদানী রহ.
হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.-এর সুযোগ্য পুত্র; ১৯৭৩ সালে আগমন।
মুফতী মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহী রহ.
১৯৯১ সালে জামিয়ার মসজিদে বুখারী শরীফের দরস দেন।
সায়্যিদ ইউসুফ হাশেম রেফায়ী রহ.
কুয়েতের মন্ত্রী ও আওলাদে রাসূল ﷺ; ১৯৮২ সালে উপস্থিত লোকদের বায়আত করান।
সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.
১৯৮৩ ও ১৯৮৭ সালে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বয়ান; ইন্তেকালের পূর্বেও আবার আগমন।
মুফতী রফী উসমানী রহ.
১৯৮৭ ও পরবর্তীতে; জামিয়ার মসজিদে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বয়ান।
মুফতী তাক্বী উসমানী দা. বা.
একাধিকবার আগমন; মুহাদ্দিস সাহেব হুজুরের সাথে সাক্ষাৎ ও ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বয়ান।
আনজার শাহ কাশ্মীরী রহ.
আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ.-এর একমাত্র সাহেবজাদা; একাধিকবার আগমন।
তালহা কান্ধলবী রহ.
শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর পুত্র; আনুমানিক ২০১৫ সালে আগমন।
মাওলানা তারিক জামিল দা. বা.
পাকিস্তানের প্রসিদ্ধ দায়ী; ১৯৮৭ ও ২০০৩ সালে জামিয়ার মসজিদে বয়ান।
নিযামুদ্দীন শামযায়ী রহ.
পাকিস্তানের প্রসিদ্ধ আলেম ও আমাদের শায়েখের ছাত্র — 'যা কিছু পেয়েছি তা শায়েখ থেকেই অর্জন করেছি।'
মাও. সলীমুল্লাহ খান রহ.
পাকিস্তানের জামিয়া ফারুকিয়ার মুহতামিম; দু'বার আগমন ও বয়ান।
ইউসুফ লুধিয়ানবী রহ.
পাকিস্তানের প্রখ্যাত মুফতী; আনুমানিক ১৯৮৫ সালে আগমন।
মুফতী আহমাদুর রহমান রহ.
ইউসুফ বিন্নুরী রহ.-এর জামাতা; আনুমানিক ১৯৮৭ সালে আগমন।
এছাড়াও দেওবন্দের আরও অনেক মাশায়েখ — আবুল হাসান আযমী, আল্লামা কমরুদ্দীন, ইউসুফ তাওলভী, মুফতী আমীন পালনপুরী, মুফতী সালমান মনসুরপুরী প্রমুখ জামিয়ায় তাশরীফ এনেছেন।
উপসংহার
দেশের আনাচে-কানাচে ইসলামি শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা পালনের সুবাদে জামিয়াটি ইতোমধ্যেই সুখ্যাতি অর্জন করেছে। এর অরাজনৈতিক শিক্ষা কারিকুলাম অনুযায়ী প্রায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। সত্যিতো! ছোট একটি দোচালা টিনের ঘর তথা ফুরকানিয়া মক্তবকে কঠোর পরিশ্রম, অক্লান্ত সাধনা ও জীবনের সব কিছু উজাড় করে দিয়ে আজ এত বড় সুবিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন যিনি, তিনি এই জামিআর সম্মানিত মুহতামিম, মহান শিক্ষাবিদ, একনিষ্ঠ জ্ঞানতাপস, বর্তমান বিশ্বের ইসলাহে উম্মতের অন্যতম রাহবার মুহিউস সুন্নাহ শাইখুল হাদীস আল্লামা মাহমুদুল হাসান দামাত বারাকাতুহুম।
বস্তুত জামিয়ার সম্মানিত মুহতামিম সাহেব দামাত বারাকাতুহুমের অসাধারণ প্রজ্ঞা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার বদৌলতে জামিয়া আজ আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীদের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ পাক এ মহান কর্মবীর আমাদের প্রাণপ্রিয় শায়েখকে দীর্ঘায়ু করুন এবং তার দক্ষ পরিচালনায় জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ি এবং তার অধীন সকল শিক্ষা-কাননকে ফুলে-ফলে সুশোভিত করুন। আল্লাহ তাআলা সমস্ত দ্বীনি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ রাখুন। আমীন।