আমাদের পূর্বসূরি মনীষীগণ বলতেন, ইলমের আগে আদব শেখো। ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহর মা তাঁকে ছোটবেলায় বলেছিলেন, রাবীয়ার মজলিসে যাও; তাঁর ইলমের আগে তাঁর আদব শিখে নাও। কেননা ইলম কোনো সাধারণ পণ্য নয় — এটি আল্লাহ প্রদত্ত এক নূর, আর নূর কেবল সেই অন্তরেই স্থান পায় যা আদব ও তাকওয়ার দ্বারা পরিশুদ্ধ। এই প্রবন্ধে তালিবে ইলমের জন্য অপরিহার্য কয়েকটি আদব নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।
## নিয়তের বিশুদ্ধতা
ইলম অর্জনের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো একনিষ্ঠ নিয়ত। যে ইলম দুনিয়া কামাই, খ্যাতি বা বিতর্কে বিজয়ের উদ্দেশ্যে অর্জিত হয়, তা অন্তরের অন্ধকার আরও বাড়িয়ে দেয়। হাদীস শরীফে এসেছে, সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। তাই প্রতিটি সবকের আগে নিজের নিয়ত যাচাই করা তালিবে ইলমের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হওয়া উচিত — আমি পড়ছি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি, নিজের আমল এবং উম্মতের খেদমতের জন্য।
## উস্তাদের সম্মান
আমাদের আকাবিরগণ উস্তাদকে রূহানী পিতা বলতেন। যে ছাত্র উস্তাদের সামনে বিনয়ী, তাঁর কথায় মনোযোগী এবং তাঁর খেদমতে আগ্রহী, ইলমের দরজাগুলো তার জন্য একে একে খুলে যায়। ইতিহাস সাক্ষী — যাঁরা উস্তাদের জুতা সোজা করে রাখাকেও সৌভাগ্য মনে করতেন, তাঁরাই পরবর্তীকালে যুগের ইমাম হয়েছেন। উস্তাদের সমালোচনা, তাঁর সাথে বেয়াদবি কিংবা তাঁর অনুমতি ছাড়া মজলিস ত্যাগ — এসব ইলমের বরকত নষ্ট করে দেয়।
## কিতাবের সাথে সম্পর্ক
কিতাব তালিবে ইলমের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। কিতাবকে পরিচ্ছন্ন রাখা, অযু অবস্থায় দ্বীনি কিতাব স্পর্শ করার চেষ্টা করা, পাঠের সময় পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া এবং প্রতিদিনের সবক সেদিনই ইয়াদ করা — এগুলো আমাদের সালাফের অবিচ্ছেদ্য অভ্যাস ছিল। মুতালাআ ও তাকরার ছাড়া কেবল দরসে উপস্থিতি ইলম অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়।
## সময়ের কদর ও আমল
তালিবে ইলমের জীবনে সময়ই সবচেয়ে বড় সম্পদ। ফজরের পর থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিটি প্রহর যদি সবক, তাকরার, মুতালাআ ও তিলাওয়াতে সাজানো থাকে, তবে অল্প মেধার ছাত্রও অসাধারণ উন্নতি করে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা — ইলম অনুযায়ী আমল। যে ইলম আমলে পরিণত হয় না, তা কিয়ামতের দিন বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আদবের সাথে ইলম অর্জন এবং সে অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
